সংবাদ শিরোনাম:
ফুলবাড়ী পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা রংপুরে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন: বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ‎ রংপুরে বাংলাদেশ আদিবাসী পার্টি (BAP)-র নতুন কমিটি গঠন সভাপতি জয় পাহান, সাধারণ সম্পাদক রিপন ধানোয়ার ‎ দিনাজপুরে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন: বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উদযাপিত ভূয়া অষ্টম শ্রেণির সনদে আয়া পদে চাকুরির অভিযোগ! শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্যে কে? বিরামপুরে অসহায় মানুষের পাশে বিএনপি নেতা রেজাউল করিম রেজু: দৃষ্টি ও মানসিক প্রতিবন্ধীসহ পরিবারের মাঝে ‘জিয়ার চাল’ বিতরণ হাবিপ্রবিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন দোয়ারাবাজারে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ উদ্বোধন বিরামপুরে একই পরিবারের চার শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
দিনাজপুরের বিরামপুরে ৪ নং দিওড় ইউনিয়নে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ

দিনাজপুরের বিরামপুরে ৪ নং দিওড় ইউনিয়নে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ

মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর
জেলা বিশেষ প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়নে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ,কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল,দিওড় ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল,দিওড় ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোঃ রেজওয়ান আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন,দিওড় ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন,দিওড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মালেক মন্ডল,প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল,বিরামপুর উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম মাস্টার। কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়। প্রতিটি কৃষককে ৫ কেজি উন্নতমানের বীজ,১০ কেজি ড্যাব সার এবং ১০ কেজি পটাশ সার প্রদান করা হয়। আয়োজকদের মতে,বর্তমান সময়ে কৃষি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক চাষাবাদে নানা ধরনের আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ,কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কৃষকদের অবদান অপরিসীম। কৃষকরা পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও প্রণোদনা পেলে দেশের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং খাদ্য উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বক্তারা আরও বলেন,জলবায়ু পরিবর্তন,কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, সেচ ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকদের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা,উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ,কৃষি প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ রেজওয়ান আলী বলেন,“কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সহায়তা প্রদান এবং তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।”প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন,“বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষি। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কৃষকবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে লাভজনক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,বর্তমানে কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে চাষাবাদ পরিচালনা করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বীজ ও সার সহায়তা তাদের উৎপাদন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আসন্ন মৌসুমে ভালো ফলনের আশা জাগাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে,কৃষকদের হাতে সময়মতো উন্নতমানের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার পৌঁছে দেওয়া গেলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়,ফসলের গুণগত মান উন্নত হয় এবং কৃষকের আয় বাড়ে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ,কৃষক সমাজের প্রতিনিধি,গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা,এ ধরনের কৃষকবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি,আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কৃষকের কল্যাণে ধারাবাহিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিরামপুরের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com